স্ট্রোক — হঠাৎ ঘটে যাওয়া বিপদ, কিন্তু প্রতিরোধ সম্ভব

স্ট্রোক বা “Brain Attack” হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে হঠাৎ করে মস্তিষ্কের রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় বা রক্তক্ষরণ ঘটে।
ফলস্বরূপ মস্তিষ্কের কোনো অংশ কাজ করা বন্ধ করে দেয় — এতে রোগী কথা বলতে পারে না, শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যায়, কিংবা চেতনা হারিয়ে ফেলতে পারে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় লক্ষাধিক মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন, অথচ এর অনেকটাই প্রতিরোধযোগ্য

স্ট্রোকের প্রধান কারণ

  1. স্ট্রোক সাধারণত দুটি কারণে হয়ে থাকে —
    1 ইস্কেমিক স্ট্রোক (Ischemic Stroke) — মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া (প্রায় ৮৫% ক্ষেত্রে)। 
  2. হেমোরেজিক স্ট্রোক (Hemorrhagic Stroke) — মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (প্রায় ১৫% ক্ষেত্রে)।

 সাধারণ ঝুঁকির কারণগুলো হলো —

  • উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension)
  • ডায়াবেটিস
  • ধূমপান ও মদ্যপান
  • রক্তে চর্বি বা কোলেস্টেরল বৃদ্ধি
  • অনিয়মিত জীবনযাপন ও ব্যায়ামের অভাব

স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ

BE FAST” সূত্রে স্ট্রোক চিনে রাখা যায়ঃ

  • B (Balance) — হঠাৎ ভারসাম্য হারানো
  • E (Eyes) — দৃষ্টি ঝাপসা বা এক চোখে অন্ধকার দেখা
  • F (Face) — মুখের একপাশ বেঁকে যাওয়া
  • A (Arms) — এক হাত দুর্বল হয়ে পড়া
  • S (Speech) — কথা জড়িয়ে যাওয়া
  • T (Time) — তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নেওয়া (Time is brain!)

মনে রাখবেন — স্ট্রোকের চিকিৎসায় প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারলেই জীবন বাঁচানো সম্ভব।

 চিকিৎসা ও পুনর্বাসন

  1. স্ট্রোকের চিকিৎসা মূলত দুটি ধাপে হয় —
      অ্যাকিউট ম্যানেজমেন্ট (প্রথম ৪.৫ ঘণ্টার মধ্যে):
  • রক্তপ্রবাহ পুনঃস্থাপনের জন্য থ্রোম্বোলাইটিক ওষুধ প্রয়োগ।
  • রক্তচাপ ও রক্তে চিনি নিয়ন্ত্রণ।
  1. পুনর্বাসন (Rehabilitation):
  • ফিজিওথেরাপি
  • স্পিচ থেরাপি
  • মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং

যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু হবে, তত বেশি মস্তিষ্কের কোষ বাঁচানো সম্ভব।

কীভাবে স্ট্রোক প্রতিরোধ করবেন

  • নিয়মিত রক্তচাপ ও শর্করা পরীক্ষা করুন
  • লবণ ও তেল কম খান
  • প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন
  • ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করুন
  • স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকলে বছরে অন্তত একবার নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন

স্ট্রোক কোনো “হঠাৎ বিপদ” নয়, বরং এটি জীবনযাত্রা ও সচেতনতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ।
যত দ্রুত আমরা ঝুঁকি চিনব ও জীবনধারা ঠিক করব, ততই আমরা নিজেদের ও প্রিয়জনদের নিরাপদ রাখতে পারব।

“একটি সুস্থ মস্তিষ্কই একটি সুখী জীবনের চাবিকাঠি।” — ডা. আবু সালেহ মোঃ বদরুল হাসান

প্রফেসর ডা. মোঃ বদরুল হাসান

যৌথ পরিচালক ও অধ্যাপক, নিউরোলজি বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটাল (NINS), ঢাকা